আন্তর্জাতিকমানের সুইমিং পুলটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১০ সেপ্টেম্বর

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইংরেজী, সোমবার: সাঁতার শুধু খেলা নয় নদীমাতৃক এদেশে জীবন-মরণের প্রশ্নও। সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে প্রতিবছর অনেক শিশু মারা যায়। অনেক কলেজছাত্রও মারা যায় নদীতে, সৈকতে কিংবা ঝর্নার কূপে। তাই অভিভাবকরা সন্তানের সাঁতার না জানা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর চট্টগ্রামের অভিভাবকরা সাঁতার শেখানোর বিষয়ে নির্ভর করতে পারেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) বিভাগীয় সুইমিং পুলে।

কাজীর দেউড়ির আউটার স্টেডিয়ামে (এমএ আজিজ সংলগ্ন) আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুলটিতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সী মানুষকে সাঁতার শেখানোর কোর্স শুরু হচ্ছে। প্রতিদিন ফরম সংগ্রহের জন্য ভিড় করছেন অনেক বাবা-মা, কৌতূহলী তরুণ-তরুণী।
সিজেকেএস সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষানবিশ (সাঁতার না জানা) ক্যাটাগরিতে ছেলে-মেয়েদের ১ মাসের কোর্সে ভর্তি ফি ৩ হাজার টাকা। ১ ঘণ্টার ক্লাস হবে সপ্তাহে ৪ দিন। মাসের যেকোনো দিন ভর্তি হওয়া যাবে। প্রতি ব্যাচে সর্বোচ্চ ৩০ জন সাঁতারু অংশ নিতে পারবে।
বিভিন্ন ইভেন্টের জাতীয় দল ও চট্টগ্রাম জেলা দলের সাঁতারুরা সপ্তাহে ৪ দিন দৈনিক ১ ঘণ্টা সাঁতার কাটতে পারবেন। জনপ্রতি প্রতিঘণ্টা ২০০ টাকা।
সাঁতার জানা শৌখিন সাঁতারুদের প্রতি ঘণ্টা ৪০০ টাকা, এককালীন মাসিক মেম্বারশিপ ৮ হাজার টাকা, ছয় মাসের মেম্বারশিপ ২০ হাজার টাকা। সপ্তাহে ৪ দিন সাঁতার কাটতে পারবেন তারা। এ ছাড়া নাটক, সিনেমা, শর্টফিল্মের শ্যুটিংয়ের জন্য প্রতিঘণ্টায় দিতে হবে ১০ হাজার টাকা।
সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পুরুষরা, বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নারীরা, এরপর এক ঘণ্টা করে পুরুষ, ছেলে ও মেয়ে এবং রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত শুধু পুরুষরা (যারা সাঁতার জানে) সুইমিং পুলটি ব্যবহার করতে পারবেন।
সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সুইমিং কমপ্লেক্সটিকে ২ জন নারী প্রশিক্ষক, ২ জন পুরুষ প্রশিক্ষকসহ ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা সাঁতার জানে না তাদের জন্য বিভিন্ন কোর্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী ও পুরুষদের সাঁতার শেখার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করেছি আমরা। এটি সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, তবে এর আয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
প্রশিক্ষণ ফি বেশি কিনা-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা প্রতিবন্ধীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সাঁতার শেখাবো। সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নামমাত্র ফি’তে সাঁতার শেখাবো। আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবো। আমি চাই-সাগর, নদী, দীঘি, পুকুর, ঝর্না, হ্রদে ভরা চট্টগ্রাম বিভাগে পানিতে ডুবে আর কোনো মা-বাবার বুক খালি না হোক।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি চট্টগ্রামের একমাত্র আন্তর্জাতিকমানের সুইমিং পুল। এর রক্ষণাবেক্ষণে আমাদের সজাগ দৃষ্টি থাকবে। এখানে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে-নিয়মিত পানি বদলানো। এর জন্য আমরা ওয়াসার লাইনের পাশাপাশি নিজস্ব গভীর নলকূপ বসিয়েছি।
মানসম্পন্ন সুইমিং পুলের অভাবে এ জনপদের সাঁতারুরা পিছিয়ে পড়ছিল উল্লেখ করে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাঁতার ইভেন্টটি এখন জনপ্রিয় হবে। অনেক সাঁতারু তৈরি হবে। দেশ-বিদেশে তারা জয় ছিনিয়ে আনবে।
উদ্বোধন মঙ্গলবার
আন্তর্জাতিকমানের সুইমিং পুলটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর)। বেলা ১১টায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। বিশেষ অতিথি থাকবেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন। সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।
একনজরে সুইমিং পুল
২০১৭ সালের মার্চে ১১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং কমপ্লেক্সটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত সুইমিং কমপ্লেক্সে রয়েছে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য, ২২ মিটার প্রস্থ এবং ১ দশমিক ৮ মিটার গভীর ৮ লাইনের একটি সুপেয় পানির সুইমিং পুল।
রয়েছে খোলোয়াড়দের জন্য অত্যাধুনিক ড্রেসিং রুম, প্লেয়ার্স লাউঞ্জ, দেড় হাজার দর্শকের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গ্যালারি, বিশুদ্ধ পানির পিউরিফিকেশন প্ল্যান্ট, ডিপ টিউবওয়েল, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ২৫০ কেভি’র বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং নিজস্ব পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*