আনজুমানে রাহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিযা ট্রাস্টের সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬, রবিবার: মহান পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন উপলক্ষে আনজুমানে রাহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট প্রতিবছর চট্টগ্রামেimg_3084 যে জশনে জুলুস বের করে থাকে তা বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় র‌্যালী। কিন্তু আঞ্চলিকতার অজুহাতে চট্টগ্রামের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে পরিনত হওয়া এ র‌্যালীকে গণমাধ্যমে আশানুরূপ ফোকাস করা হয় না। চট্টগ্রাম দেশের ঐতিহ্যবাহি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী একটি বড় নগর নয় শুধু; সুফসাধকদের পাদপিঠ। এখান থেকে ইসলামের অসম্প্রদায়িক ও শান্তির বাণি প্রচার করা হয়েছে, ফলে চট্টগ্রামের নামের সাথে সুফিদের নাম জড়িত। চট্টগ্রামের সে ঐতিহ্যের ধারাকে জুলুসের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবীত করা হলেও তা রাষ্ট্র ও গনমাধ্যম কর্তৃক উপেক্ষিত হওয়াটা চট্টগ্রামের প্রতি এক ধরণের বিমাতা সূলভ আচরণ। গতকাল রবিবার সকালে নগরীর প্রেসক্লাবে আযোজিত আনজুমানে রাহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সংবাদ সম্মলনে সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এ কথা বলেন। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে জশনে জুলুসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের আহবান জানান সরকারের কাছে। তিনি বলেন, সারা দেশের মানুষ গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন এpress20161204133938 জুলুসের জন্য। এবারও জুলুসে বিশ লাখের অধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আনোয়ার হোসেন। সম্মেলনে এক প্রশ্নে জবাবে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিলা মাদ্রাসার মুফতি আল্লামা সৈয়দ অসিয়র রহমান বলেছেন, জশনে জুলুসকে ফেরেশতাদের সুন্নত মন্তব্য করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহাসমারোহে এখন জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ তৈয়ব শাহ জশনে জুলসের প্রবর্তন করেন। এর পর থেকে প্রতি বছর পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবীর আয়োজন করে আসছে আনজুমান ট্রাস্ট। প্রতিবারের মতো এবারও আগামী শনিবার(১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় এবং মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবীর আয়োজন করা হয়েছে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র উদ্যোগে গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র তত্ত্বাবধানে জুলুছে নেতৃত্ব দেবেন আওলাদে রাসুল সৈয়দ মোহাম্মদ তাহের শাহ (ম.জি.আ)।
শনিবার সকাল ৮টায় ঢাকা মোহাম্মদপুরের খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে জুলুস বের করা হবে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামেয়া কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।
মঙ্গলবার সকাল ৮টায় বন্দর নগরী চট্টগ্রামের ষোলশহর আলমগীর খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে জুলুছ বের হবে। বিবিরহাট, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, চন্দনপুরা, সিরাজুদৌলা রোড হয়ে আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, জামালখান, গণি বেকারি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর হয়ে জায়েমা আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ, আলোচনা সভা ও যুহরের নামাজের পর মুনাজাত শেষে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র জয়েন্ট সেক্রেটারি ্ সিরাজুল হক, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দিদারুল ইসলাম, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সম্পাদক অধ্যাপক কাজী শামমুর রহমান, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ্আলহাজ আনোয়ারুল হক, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোসাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার মুফতি আল্লামা সৈয়দ অসিয়র রহমান, সাংবাদিক স ম ইব্র, অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল, সাদেক হোসেন পাপ্পু, হাবিবুল্লাহ মাস্টর, ছাবের আহমদ, ইরশাদ খতিবী, আবু নাসের তৈয়ব আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: