আত্মজীবনী শেষ কবি ফরিদ কবীরের

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ জানুয়ারী ২০১৭, রবিবার: শেষ পর্যন্ত বাংলা ভাষার সবচাইতে মন্দ আত্মজীবনীর পান্ডুলিপিটা প্রায় শেষ করলাম। আশা করি, আগামীকাল প্রকাশকের হাতে দিতে পারবো।
আমাদের দেশের কবি-লেখকদের আত্মজীবনীগুলো পড়ার সময় আমার মনে হয়েছিলো, আমি ফেরেশতাদের জীবনী পড়ছি, যারা কখনো কোনো নারীর দিকে ফিরেও তাকাননি! স্পর্শ তো দূরের কথা! তারা মানুষকে কষ্ট দেননি! তাদের জীবনে মন্দ কিছু কখনো ঘটেনি! তারা যা করেছেন তার সবই মহৎকর্ম!
আমি একজন সাধারণ মানুষের জীবনীই লিখতে চেষ্টা করলাম! যে-মানুষের ভালোর সঙ্গে আছে কিছুটা মন্দও! যেমনটা সব মানুষের থাকে!
আমার সুবিধা এই যে আমি অসাধারণ কেউ না। তাই, এই গল্পে কোনো মিথ্যে নেই! কোনো লুকোচুরি নেই! আমাকে যারা জানেন, তারা জানেন, কোনো মিথ্যেকে আমি প্রশ্রয় দেইনি কখনো।
হ্যাঁ, যুবাবয়সে এমন কিছু ঘটনা আমি ঘটিয়েছি, এমন কিছু ভুল করেছি যার জন্য আমার গ্লানি আজও ঘোচেনি! কোনো কারণে গ্লানি হলে তা ঘোচানো খুবই মুশকিল।অভিজ্ঞতা থেকে বুঝি, অসাধারণ মানুষকে তার কালো দিকগুলোকে লুকোতে হয়! কারণ তার অন্ধকার দিকগুলো প্রকাশ পেলে তিনি আর অসাধারণ থাকতে পারবেন না! তিনি পরিনত হবেন সাধারণ মানুষে। কোনো অসাধারণ মানুষই কখনো সাধারণ হতে চান না!
অসাধারণ হতে পারা আসলে কঠিন। আমি সেটা হতে চাইওনি! আমি কবিতাই লিখতে চেয়েছিলাম। সোজা করে বললে কবিই হতে চেয়েছিলাম। নতুন কিছু লিখতে চেয়েছিলাম। আর কিছু না। তার জন্য নিজে যেমন উন্মাদ হয়েছিলাম, তেমনি কাটিয়েছিলাম উন্মাদনাময় একটা সময়ও! নিজে সামান্য হলেও আমি সান্নিধ্যে এসেছিলাম, বাংলাভাষার অনেক হিরে-মাণিক্যের!
কিছুদিন সাংবাদিকতাও আমি করেছিলাম। কিন্তু যাদের পায়ের নিচে আমি দাঁড়ানোর জন্য মাটি তুলে দিয়েছি, তারাই আমাকে থাকতে দেননি।
এ গল্প তাই শুধুই আমার নিজের গল্প নয়। এ গল্পে আছে আমার সময়ের সাহিত্য ও সাংবাদিকতার অনেক অপ্রকাশিত কাহিনিও।
এ বই যারা লিখতে আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ফেসবুকে এর কিছু অংশ পড়ে যারা এ বইটি সম্পর্কে আগ্রহ দেখিয়েছেন, কৃতজ্ঞতা জানাই তাদেরকেও।
শেষে বলি, আমি হয়তো জন্মেছিলাম ভালবাসা বিলাতেই। ভালবাসা পেতেও। আর কিছু না হোক, এটুকু হয়তো কিছুটা অর্জন করা গেছে! এ জীবনে তাই বা কম কী!

Leave a Reply

%d bloggers like this: