আজ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদ্যাপিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ৩১মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০১৫ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ইপসা-এর যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম DSC08382শহীদ মিনার চত্তর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে শেষ হয় এবং পরবর্তীতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯ টায় অনুষ্ঠিত উক্ত শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: মো: সরফরাজ খান চৌধূরী। শোভাযাত্রা পরবর্তী আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’১৫ এর প্রতিপাদ্য “তামাকজাত পণ্যের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ কর” বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে তামাকের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর প্রয়োগের উপর জোরালো দাবী জানান। উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা: সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: মো: সরফরাজ খান চৌধূরী। উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা: আলাউদ্দীন মজুমদার, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, ইপসার পরিচালক মাহাবুবুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মো: রফিক উদ্দিন। উক্ত সভার সঞ্চালনায় ছিলেন ইপসার ফারহানা ইদ্রিস, সমন্ব^য়ের দায়িত্ব পালন করেন ওমর শাহেদ হিরু, ইপসা। উক্ত সভায় বিগত এক বছরে আত্মার সদস্য হিসেবে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি তুলে ধরার জন্য প্রিন্ট এবং ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার চারজন সাংবাদিককে ”তামাক নিয়ন্ত্রণ সম্মাননা পুরস্কার ২০১৫” প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন দেশ টিভির আলমগীর সবুজ, চ্যানেল ২৪ এর প্রদীপ চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর মোরশেদ তালুকদার এবং দৈনিক পূর্বকোণের মো: সাইফুল আলম। সভায় প্রধান অতিথি প্রফেসর ডা: সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন তামাকের ব্যবহার হ্রাস করতে তৃণমূল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা তৈরী করে নতুন প্রজন্মকে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত করা এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে সমনি¦ত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। উক্ত সভায় ইপসা’র টিম লিডার নাছিম বানু দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর উপস্থাপনা তুলে ধরে বলেন, বিশ্ব বাজারে বিক্রিত মোট সিগারেটের ১১.৬ শতাংশই অবৈধ (১০ টায় ১ টা) যার প্রভাব মূলত নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ওপর পড়ছে। বাংলাদেশে বিক্রিত মোট তামাকপণ্যের ২৬ শতাংশ বিড়ি-সিগারেট ও ১৪ শতাংশ গুল-জর্দা। মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ইংল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভূক্ত দেশসহ ৫০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা শতাধিক ব্র্যান্ডের অবৈধ তামাকপণ্যের বাজার এখন বাংলাদেশে। অবৈধ সিগারেট ও চুরুটের অধিকাংশই আসে সমুদ্র ও বিমান পথে। ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের প্রায় পুরোটাই আসে স্থলপথে এবং প্রধানত ভারত থেকে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত তামাকপণ্যেরও একটা অংশ কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হয়। প্রতিবছর বাংলাদেশে কোটি কোটি টাকার তামাকপণ্যের অবৈধ বাণিজ্য হয় যার ফলে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উক্ত কর্মসূচীসমূহে বিভিন্ন এনজিও, ধূমপানমুক্ত কোয়ালিশন, আত্মার সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*