আজ থেকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে গ্রামীণ ব্যাংক

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : নোবেল বিজয়ী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক আজ থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে। সরকার নিযুক্তরাই পরিচালনা করবেন ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালনা বোর্ডের ৯ Grameen Bankজন নারী সদস্যের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের জায়গায় এসব নতুন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে বিদায়ী পরিচালকরা শুরু থেকেই সংশোধিত গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩’র বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মতে, একটি পরিপূর্ণ বোর্ড গঠন এবং কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের আমন্ত্রণ না জানানো হলেও তারা সব বোর্ড মিটিংয়েই অংশ নেবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কোরাম গঠিত হয়েছে। যার মাধ্যমে সংশোধিত আইন অনুযায়ী ব্যাংক পরিচালিত হবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কমিশন এক বছরের মধ্যে একটি নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন ৯জন নারী বোর্ড সদস্যদের নির্বাচিত করবে। ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান বিষয়ক বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম গতকাল বলেন, ‘নতুন সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা এখনও কোনও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ খুঁজছি। যাকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হবে।’ ব্যাংকিং বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে তাদের কেউই নির্বাচনী দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নয়। বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংক (জিবি) পরিচালনার জন্য সরকার তিনজন কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করেন। তারা হলেন, গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সুরাইয়া বেগম এবং আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার। কোরামের চতুর্থ সদস্য হলেন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মহিউদ্দিন। তিনি বোর্ড সদস্য না হলেও সব বোর্ড সভায় অংশগ্রহণ করবেন। গ্রামীণ ব্যাংকের ময়মনসিংয়ের পরিচালকের প্রতিনিধি তাহাসিনা খাতুন বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড থেকে গরিব নারী ঋণ গ্রহীতাদের প্রতিনিধিকে সরিয়ে দেওয়া হলে তা ব্যাংকের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, গত অক্টোবর থেকে বোর্ড পরিচালকদের কোনও সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চলমান হরতাল এবং অবরোধের কারণে কোনও সভা করতেও পারছে না কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নতুন আইন অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালক নির্বাচিত হলে তাতে ব্যাংকের উপর রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে। অন্যান্য বিদায়ী নারী পরিচালক হলেন, সিলেটের মোছাঃ সুলতানা, চট্টগ্রামের সাজেদা, কুমিল্লার রেহানা আক্তার, গাজীপুরের সালেহা খাতুন, দিনাজপুরের পারুম বেগম, বগুড়ার মারিনা, যশোরের শাহিদা এবং পটুয়াখালীর মমেনা বেগম। তারা সারাদেশের দুই হাজার ৫০০ শাখার মোট ৮০ লাখ ৪০ হাজার ঋণগ্রহীতার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, ইউনূসপন্থী সদস্যরা বোর্ড সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় পরিচালনা পর্ষদ সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। ১৯৮৩ সালে এইচএম এরশাদের আমলে সামরিক অধ্যাদেশের অধীনে ব্যাংকটি গঠিত হয়। শুরু থেকে এর প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। ২০১১ সালে চাকরির বয়স পার হয়ে যাওয়ায় ওই পদ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে অব্যাহতি দেয়। তখন থেকে তার পদটি খালি রয়েছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ডকুমেন্টারি প্রচার হয়। এতে অভিযোগ ওঠে, গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া বৈদেশিক টাকা ইউনূস এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছেন। ওই সময়ে এ ঘটনা দেশের ভেতর এবং বাইরে ব্যাপক সমালোচনা হয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন তৈরির প্রচেষ্টার জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে ২০০৬ সালে ইউনূস নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রায় ২৫ শতাংশ শেয়ার সরকারের। কিন্তু ২০১৩ সালের আগস্ট মাসের আগে সরকারের এই অংশ ছিল ৩.২৫ শতাংশ। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকটির মূল কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে ব্যাংকটির মালিক গরিব নারীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*