আগে চমকে দেওয়া মুস্তাফিজুর কেন ব্যর্থ?

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ২ জুন, ২০১৭
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মঞ্চে প্রথমবারের মত এসেছেন বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমান। সাসেক্সের হয়ে কাউন্টি খেলায় ইংল্যান্ডের কন্ডিশন একেবারে অপরিচিত নয় তার। তবে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারলেন না তিনি। জ্বলে উঠতে পারলেন না আর কোনো বোলার। ৩০৫ রান করেও পরাজয়ের দায় তাই বোলারদের ওপরেই বর্তাচ্ছে। বোলিংয়ের অন্যতম ভরসা মুস্তাফিজ ৯ ওভারে ৫১ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশুন্য। ম্যাচটি দেখে কলকাতার প্রথম সারির একটি দৈনিকে কলাম লিখেছেন সাবেক ক্রিকেটার, কোচ এবং ক্রীড়া লেখক রণদেব বসু। সেখানে এসেছে বাংলাদেশের পারফর্মেন্সের বিশ্লেষণ।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সাবেক কোচ রণদেব বসু শুরুতেই সমালোচনা করলেন অধিনায়ক মাশরাফির। তিনি লিখেছেন, “ইন্টারনেটে দেখছিলাম, ফেভারিটের মতোই শুরু করল ইংল্যান্ড। চেনা পরিবেশ, চেনা উইকেটে একেবারে রেকর্ড গড়ে শুরু। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রান তাড়া করে এটাই সবচেয়ে বড় রান চেজ করে জয়। প্রথম ওভারে জেসন রয়কে (১) ফিরিয়ে মাশরাফির দেওয়া ব্রেক থ্রু কাজে এল না। যার দায় মাশরাফিকেই নিতে হবে। নেতৃত্বে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। হাতে ৩০৫ রান নিয়ে প্রতিপক্ষকে কী ভাবে আটকে রাখতে হয়, সেটা জানা ছিল না মাশরাফির। ”

তিনি এরপর এসেছেন বোলারদের দায়বদ্ধতার জায়গায়। কোচ হওয়ার কারণ মুস্তাফিজকে কাছ থেকে দেখেছেন। ভারতের বিপক্ষে দেশের মাটিতে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স দেখানো মুস্তাফিজকে তখন তিনি সতর্ক করেছিলেন এই বলে যে, ভালো বোলারদের নিয়ে সব ব্যাটসম্যানরা গবেষণা করে। তার বলের রহস্য বের করার চেষ্টা করে। তাই বোলারকে সবসময় অস্ত্রে বৈচিত্র আনতে হয়। সেই কথাটা যেন এখন অক্ষরে অক্ষরে বুঝতে পারছেন ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান। বুঝতে পারছেন দলের সবাই।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বোলারদের পারফর্মেন্স দেখে রণদেব বসু লিখেছেন, “বোলাররা বল ফেলছে এক জায়গায় ফিল্ডিং সাজানো আর এক রকম। এভাবে ইংল্যান্ডকে আটকানো যায় না। যায়ওনি। অনেক সময় ক্যাপ্টেন কিছু না বললেও বোলারদের ব্যক্তিগত কৃতিত্ব পার্থক্য গড়ে দেয়। মুস্তাফিজ, রুবেলদের বোলিংয়ে কোনো পরিকল্পনা দেখলাম না। কোনো বুদ্ধিমত্তার ছাপ ছিল না। আগে চমকে দেওয়া মুস্তাফিজুর কেন ব্যর্থ? ওর রহস্যটা ধরা পড়ে গেছে যেন। পেস সহায়ক উইকেট না পেলে খুব সমস্যা। আইপিএলেও তো সে ভাবে ব্যবহার করা হয়নি। পরিস্থিতি অনুযায়ী ও নিজেকে পাল্টে ফেলতে পারছে না। ”

ব্যাটসম্যানদের নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি কিছুটা সমালোচনা করেছেন রণদেব। তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশের ব্যাটিংটা দাঁড়িয়েছিল তামিম আর মুশফিকুরের ব্যাটের ওপর। হারলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে বড় শিক্ষা দিয়ে গেল বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। দেখাল ইংল্যান্ডের উইকেটে কী ভাবে ব্যাটিং করতে হয়। ১০ ওভারের প্রথম পাওয়ার প্লে-তে বাংলাদেশের রান ছিল ৩৬/০। এত কম রানের পরও ৩০০ প্লাস রান তোলা যায়- এটাই শিক্ষা। সোজা কথায়, হাতে উইকেট রেখে শেষ পর্যন্ত ইনিংস টেনে নিয়ে যেতে পারলে বড় রান উঠবেই। ”

এরপর কিছুটা সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, “তামিম একটু ধরে খেলছিল। ১৪২ বলে ১২৮। তুলনায় মুশফিকের ঝোড়ো। ৭২ বলে ৭৯। তার পরও বলব বাংলাদেশ সব করল কিন্ত্ত আদর্শ ফিনিশ করতে পারল না। তামিমের আউটের পরের বলেই মুশফিকুরের আউট হওয়াটা দায়িত্ববোধের অভাব। সেট হয়ে যাওয়ার পর মুশফিকুরের শেষ পর্যন্ত থাকা উচিত ছিল। তা হলে টোটাল স্কোরে আরও ২০ রান যোগ হতে পারত। ওয়ার্ম আপ ম্যাচে ৩৪০ প্লাস করে পাকিস্তানের কাছে হারটা থেকে আরও বেশি করে শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল বাংলাদেশের। শেষ দিকে সাব্বির (১৫ বলে ২৪) চালিয়ে না খেলতে পারলে বাংলাদেশের রান ৩০০ রানের নিচে আটকে যেতে পারত। “

Leave a Reply

%d bloggers like this: