‘আগামী সপ্তাহেই পাম্প হাউস সহ সø্যুইচ গেইট প্রকল্পের টেন্ডার আহবান করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০২ জুন ২০১৭, শুক্রবার: আগ্রাবাদ এলাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মহেশখালের উপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁধটির পানি নিষ্কাশনের সু-ব্যবস্থা না থাকার কারণে নগরীর আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকা প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। জলদুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে রক্ষার স্বার্থে মহেশখালের উপর নির্মিত   বাঁধটি অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তির লক্ষে মহেশখালে পাম্পহাউস সহ স্ল্যুইচ গেইট নির্মান প্রসঙ্গে ০১ জুন ২০১৭ খ্রি.বৃহষ্পতিবার,সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন,চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ,পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ ৩ সংস্থার যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আগ্রাবাদ-হালিশহর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী ভিত্তিতে মহেশখালের উপর একটি বাঁধ নির্মাণ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টি,তার সাথে জোয়ারের পানিরচাপে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সকল সেবা সংস্থা সমূহের  প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হচ্ছে মহেশখালের উপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁধটি দ্রুত অপসারণ করা হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষরিত পত্রটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই সাথে জলাবদ্ধতার হাত থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাকে  স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মহেশখালের মুখে পাম্পহাউস সহ সø্যুইচ গেইট নির্মাণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহযোগিতা দেবে। এছাড়াও আগামী সপ্তাহের মধ্যে  প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের জন্য দরপত্র আহবান করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
প্রসঙ্গক্রমে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জলাবদ্ধতা একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। বর্ষা মৌসমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টির নানামুখী কারণ রয়েছে। নগরে বিদ্যমান ৪০টি খালের মধ্যে অনেকগুলোই দখল ও দূষণের কবলে পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া,অসচেতনভাবে নালা-নর্দমার মধ্যে জনসাধারণের ময়লা আবর্জনা ফেলা, নগরের জলাশয়গুলো ভরাট করে ফেলা,
পাহাড়ের বালি মিশ্রিত পানি প্রবাহের কারনে নালা-নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়া, অতি বৃষ্টির সাথে জোয়ারের প্রভাব এবং জলবায়ুর প্রভাব জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। সিটি মেয়র শীঘ্রই আরএস খতিয়ান মূলে ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ দখলদারীদেরকে উচ্ছেদে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, মহেষখালের অস্থায়ী বাঁধে পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকত থাকায় পানি নিষ্কাশনে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। জনস্বার্থে সেসকল প্রতিবন্ধকতা অপসারন করে  দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ গ্রহন করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
তিনি আরো বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে নগর উন্নয়নে চসিক,ওয়াসা,কর্ণফুলী গ্যাস,টিএন্ডটিসহ সেবা সংস্থাগুলোর প্রকল্প কাজের বাস্তবায়ন চলছে। এতে করে অতিবৃষ্টির পানি রাস্তায় জলজটের সৃষ্টি করছে। ফলে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কবলে পড়ছে নগরবাসী। সভায় জলাবদ্ধতার কারনে সৃষ্ট জনদূর্ভোগের জন্য মেয়র নগরবাসীর নিকট আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। সভায় চসিক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, শফিউল আলম, মো. হাবিবুল হক,এইচ এম সোহেল, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, মোরশেদ আকতার চৌধুরী,এ এফ কবির আহমদ মানিক, মো. আবুল হাশেম, শৈবাল দাশ সুমন, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফেরদৌসি আকবর, ফারহানা জাবেদ, ফারজানা পারভিন, চসিক এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হোসেন,চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সদস্য প্রকৌশল কমান্ডার জুলফিকার আজিজ, প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদুল হোসেন খান,পানি উন্নয়ন বোর্ড এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একেএম সামছুল করিম, বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*