আওয়ামী লীগ অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়: শেখ হাসিনা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, শনিবার: বিএনপি মাঝ পথে ভোট থেকে সরে যেতে পারে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগের দিন এই সতর্কতা দেন তিনি। শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) বিএনপি -জামায়াতের হামলায় আহত দিনাজপুর আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমানকে দেখতে যান আওয়ামী লীগ প্রধান। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনের মাঝপথে বিএনপির ভোট বর্জনের প্রবণতা আছে। সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে যেন অন্যান্য দলের প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকে।’ আওয়ামী লীগ অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় জানিয়ে দলটির প্রধান বলেন, কোনো সংকট সৃষ্টি হোক এটি কাম্য নয় তার কাছে। বিএনপি-জামায়াতের বর্জনের মুখে দশম সংসদ নির্বাচনের ভোট হলেও এবার তারা এসেছে ভোটে। তবে বিএনপি বর্জন করতে পারে এই আশঙ্কা থেকে জোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া ২৯টি আসনের বাইরেও ১৪২টি আসনে প্রার্থী দেয় দলটি। শুরুতে প্রকাশ না করলেও পরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, বিএনপির ভোট থেকে সরে যাওয়ার কথা মাথায় রেখেই এই কৌশল নিয়েছেন তারা। এবার আর ২০১৪ সালের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদ তৈরি করতে দেননি তারা। ভোটের প্রচার চলাকালে সহিংসতার ঘটনায় নানা সময় বিএনপির ভোট থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে প্রচার হয়েছে। যদিও তাদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকবে তারা। শেখ হাসিনা বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত একটা সতর্ক আমি করতে চাচ্ছি। ওদের (বিএনপি) একটা চরিত্র আছে ওরকম। হয়তো নির্বাচন চলাকালীন সময় হঠাৎ মাঝপথে বলবে, আমরা ইলেকশন করব না। আমরা প্রত্যাহার করে নিলাম। সেই ক্ষেত্রে আমি বলব, যারা যারা প্রার্থী, অন্যান্য দলের যেসব প্রার্থী বা আমাদের দলের প্রার্থী যারা আছেন, তাদের নির্বাচনটা কিন্তু সম্পূর্ণ চালিয়ে যেতে হবে এবং প্রত্যেকটা ভোটকেন্দ্রে যারা আমাদের প্রতিনিধি থাকবে বা এজেন্ট থাকবে তাদেরকে থাকতে হবে এবং রেজাল্ট নিয়ে না আসা পর্যন্ত নির্বাচনটা চালাতে হবে।’ বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা মাঝপথে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৫ সালে ঢাকার দুটি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এই ঘটনা ঘটেছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচন বানচাল করতে সন্ত্রাস ও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। ভোটারদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ থাকতে তিনি ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রচারের সময় বিভিন্ন জেলায় চোরাগুপ্তা হামলায় প্রাণ গেছে ছয় আওয়ামী লীগ কর্মীর। আহত হয়েছেন চার শতাধিক। অথচ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নালিশ করে বেড়াচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট। যাকে দেখতে যান সেই মাহবুবুর রহমানের বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রধানকে জানানো হয়, হাসাপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পথে তার উপর হামলা হয়। চাপাতির কোপ ঠেকাতে গিয়ে তার দুই হাতের চারটি আঙ্গুলে মারাত্মক আঘাত লাগে। তবে অস্ত্রোপচারের পর তিনি শঙ্কামুক্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*