আইপিএলের ব্যাটসম্যানদের নাজেহাল করে দিয়েছে মুস্তাফিজ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ মে: আইপিএলের শুরু থেকে দারুণ বোলিং করে ব্যাটসম্যানদের নাজেহাল করে দিয়েছেন মুস্তাফিজ। রীতিমতো রহস্যে পরিণত হয়েছিলেন ব্যাটসম্যানদের জন্য। তাঁর স্লোয়ার, কাটারগুলোতে বিভ্রান্ত হয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছিলেন বিরাট কোহলি, শেন ওয়াটসন, মিচেল মার্শ, এবি ডি ভিলিয়ার্সদের মতো বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানরা। দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে আন্দ্রে রাসেলকে যেভাবে ভূপাতিত করেছিলেন, তা এখনো চোখে লেগে আছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। কিন্তু আইপিএলের সর্বশেষ দুটি ম্যাচে সফলতা পাননি মুস্তাফিজ।mustafiz6
দুই দিন আগে স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের কথাটা মনে আছে? পুনের কোচ দাবি করেছিলেন, মুস্তাফিজ-রহস্যের একটা চাবিকাঠি পেয়েছেন তারা। চোট নিয়ে আইপিএল থেকে ছিটকে যাওয়ার আগে পুনের অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথই নাকি দেখিয়ে দিয়েছেন সেই পথ। এবার দিল্লি ডেয়ারডেভিলসও জানাল, স্মিথের কাছ থেকে মুস্তাফিজ-রহস্যের জট খোলার দীক্ষা নিয়েছে।
আপাতত সেটিতে কাজ হয়েছে বলতে হবে। কাল যে মুস্তাফিজকে একেবারেই নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল দিল্লি! হঠাৎ করেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হচ্ছে মুস্তাফিজকে। পুনের সঙ্গে আগের ম্যাচে ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে উইকেট পাননি। ওই ম্যাচে তাও রানের লাগামটা ধরে রেখেছিলেন। সত্যি বলতে কি, আগের ম্যাচে তাঁর কথা ১৯তম ওভারটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে নাটকীয় জয় এনে দিয়েছিল হায়দরাবাদকে। কিন্তু কাল সেটাতেও ব্যর্থ কাটার মাস্টার। দিল্লির সঙ্গে ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৯, আগের ম্যাচের মতোই ছিলেন উইকেটবিহীন। আইপিএলে এবারের আসরে এক ম্যাচে এটাই মুস্তাফিজের সবচেয়ে বেশি খরুচে বোলিং। শুধু রান দিয়েছেন বলেই নয়, হায়দরবাদের হাত থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ফসকে গেছে মুস্তাফিজের দ্বিতীয় ওভারে। জেতার জন্য তখন দিল্লির প্রয়োজন ৪২ বলে ৫৩ রান। কিন্তু মুস্তাফিজের ওই ওভার থেকেই এল ১৪ রান। এর মধ্যে দিল্লির তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ঋষভ পান্ট একাই নিলেন ১২। পরের ওভারটা মুস্তাফিজ ৩ রান দিলেও ম্যাচ ততক্ষণে দিল্লির নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। শেষ ওভারে এসে পান্ট মুস্তাফিজের ওপর আবার খড়্গহস্ত, এবারও মেরেছেন একটি করে চার ও ছয়। মুস্তাফিজের ৪ ওভার থেকে পান্ট একাই নিয়েছেন ২৬ রান। বাংলাদেশের এই নতুন পেস সেনসেশনের এক ওভারে টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়ে বেশি রান কেউ নেননি।
পরে দিল্লির ম্যাচসেরা অলরাউন্ডার ক্রিস মরিস জানিয়েছেন, মুস্তাফিজের বলটা তারা আতশ কাচের নিচেই ব্যবচ্ছেদ করেছেন, ‘আমরা অবশ্যই বেশ কিছু সময় নিয়েছি। কীভাবে স্টিভেন স্মিথ ওকে খেলেছে সেটা দেখেছি। আগের ম্যাচে অশ্বিন ওকে কীভাবে খেলেছে সেটাও লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে ডানহাতিদের জন্য।’ পুনের ম্যাচেও মুস্তাফিজের বল থেকে একটি চারই এসেছিল, সেটাও অশ্বিন মেরেছিলেন। নিজেকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন, টি-টোয়েন্টিতে ৩৯ রান দেওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটলেও বোলারটা মুস্তাফিজ বলেই এ নিয়েও আলোচনা!
মুস্তাফিজকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতাও অকপটে জানিয়েছেন মরিস, ‘২০ বছর বয়সে সে আসলেই অবিশ্বাস্য একজন বোলার। ভয়ংকরও বলতে হবে। তার ওপর এটা ওর প্রথম আইপিএলে। প্রথমবারেই তাকে নিয়ে সবার মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে, তাকে আটকানোর পথ খুঁজতে হচ্ছে। আর পর্দার আড়ালে অনেক পরিশ্রম আছে যেটা সামনা সামনি দেখা যায় না। আমরা অনেক কিছু বিশ্লেষণের পর একটা পরিকল্পনা করতে পেরেছি। সৌভাগ্যক্রমে সেটা কাজে এসেছে।’
মুস্তাফিজও জানেন, প্রত্যেকটা দিন তাঁর হবে না। দুই পা এগিয়ে যেতে কখনো কখনো এক পা পিছিয়ে আসতে হয়!

Leave a Reply

%d bloggers like this: