অস্থায়ী পাঁচ কর্মকর্তাকে স্থায়ী নিয়োগ দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ অক্টোবর, বুধবার: পদোন্নতি না পাওয়া কর্মকর্তাদের পদোন্নতি এবং অস্থায়ী পাঁচ কর্মকর্তাকে স্থায়ী নিয়োগ দেয়ার দাবিতে দ্বিতীয় 1দিনের মতো আন্দোলন করছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। দাবি পূরণ না হলে আসন্ন অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার বিকালে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
কর্মকর্তাদের সঙ্গে বুধবার সকালে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্মচারীরাও। ফলে অচলাবস্থায় পড়তে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অন্যদিকে, অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে আসন্ন অনার্স ভর্তি পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এর দ্বারা প্রশাসনকে জিম্মি করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত ৬০ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি বন্ধ করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও চাকরির পাঁচ বছরও নিয়োগ পাওয়া পাঁচ কর্মকর্তাকে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাদের বেতনভাতাসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যবিরোধী একটি পক্ষ আছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা ভিসিবিরোধী আন্দোলনে যেতে চায়। আন্দোলন সে দিকেই মোড় নিচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা সেশনজট নিয়ে রয়েছেন শঙ্কা ও উৎকণ্ঠায়। কারণ হিসেবে বলছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সাড়ে আট হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচ শতাধিক শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১১৯ জন। এর মধ্যে ২৩ জন আছেন শিক্ষা ছুটিতে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রমে রয়েছে হযবরল অবস্থায়। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে শিক্ষার্থীদের চরম মূল্য দিতে হবে বলে অঙ্কা তাদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এটিজে গোলাম ফিরোজ বুধবার সকালে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন যৌক্তিক আন্দোলন। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের পদোন্নতি মেনে নিয়ে তো আমরা আন্দোলনে যেতাম না।’ দাবি মেনে নিলেই তাৎক্ষণিক আন্দোলন বন্ধ ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।
উপাচার্য প্রফেসর ড. একেএম নূর উন নবী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী আমি কাজ করছি। কোনো অনিয়ম করতে চাই না।’
আন্দোলন প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা এবং ছেলে মেয়েদের জিম্মি করে আন্দোলন অযৌক্তিক। তারা যদি আন্দোলন চালিয়ে যায় তাহলে ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: