অলৌকিক ভেষজ অ্যালোভেরা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩০ নভেম্বর: ছোট সবুজ উদ্ভিদ অ্যালোভেরা। বাংলায় যার নাম ঘৃতকুমারী। ঔষধি গুণাগুনে ভরপুর এ উদ্ভিদ। অ্যালোভেরার অলৌকিক আর আশ্চর্য কর্মক্ষমতার মুখরোচক গল্প বা কাহিনী লোকমুখে সুবিদিত। ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবেও এর ব্যবহার বেশ প্রাচীন। প্রায় ৬ হাজার বছর আগে মিসরীয়রা অমরত্বের ওষুধ হিসেবে একে ব্যবহার করতো। অ্যালোভেরা একদিকে যেমন বাইরের সৌন্দর্য বাড়ায়, অন্যদিকে ভেষজ এই উদ্ভিদের রয়েছে পুষ্টিগুণও। দেহের ভিতরে এবং বাইরে বহু সমস্যা সমাধানে কাজ করে এ উদ্ভিদ। আয়ুবের্দিক কনসালটেন্ট ড. জয়শ্রী ভট্টাচার্য অ্যালোভেরার কয়েকটি গুণ তুলে ধরেছেন।
ক্ষত সারাতে: অ্যালোভেরা ব্যকটেরিয়া ও রোগ প্রতিরোধে শক্তিশালী ভুমিকা পালন করে। এটি দেহে যে কোন কাটা-ছেঁড়া, পোকায় আক্রমণ ও ক্ষত সারাতে কাজ করে থাকে। অ্যালোভেরার ভেতরের পিচ্ছিল পদার্থ আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে লাগালে ব্যকটেরিয়া দূর করে দ্রুত ক্ষতটি সারিয়ে তোলে এ উদ্ভিদ।
ব্রণ দূর করতে: যে কোনো মানুষের জন্য বিরক্তিকর একটি সমস্যা হলো ব্রণ। অ্যালোভেরা পুরোপুরিভাবে ব্রণ দূর করতে না পারলেও চেহারার লালচেভাব ও প্রদাহ দূর করে। এছাড়া ব্রণ গলে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
পোড়া ক্ষত সারাতে: অ্যালোভেরার ভেতরের পদার্থ বেশ ঠান্ডা। পোড়া ক্ষত সারাতে এর পিচ্ছিল জেল মোক্ষম ভুমিকা পালন করে। এছাড়া পোড়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ ত্বকের টিস্যু পুনস্থাপন করতে দ্রুত কাজ করে এটি।
রোদের পোড়াভাব: রোদের পোড়াভাব দূর করে ত্বককে উজ্জল করে অ্যালোভেরা। ত্বককে ঠান্ডা করে স্বাভাবিক আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে এ উদ্ভিদ। অ্যালোভেরার জেল ময়েশ্চারাইজাইর ক্ষমতা ত্বকের নমনিতা বজায় রাখে।
বলি রেখা দূর: বয়স বাড়ার কারণে ত্বকে ভাজ চলে আসে। অ্যালোভেরা ত্বকের বলি রেখা ও শুষ্কতা দূর করে। বলি রেখা দূর করতে বাজারের ক্যামিকেলের তুলনায় অ্যালোভেরা বহুগুণে ভালো।
চর্মরোগ: অ্যালোভেরায় শক্তিশালী এলার্জি প্রতিরোধকারী উপাদান আছে। ত্বকের চুলকানি, বিভিন্ন চর্মরোগ, সোরিয়াসিস প্রতিরোধ করে এ উদ্ভিদ। এটি চর্মরোগের বিভিন্ন ব্যকটেরিয়া দূর করে রোগ সারিয়ে তোলে।
এসিডিটি দূর: অ্যালোভেরার ভেষজ গুণ এসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক, আলসার দূর করে। এছাড়া হজম সংক্রান্ত্র জটিলতা দূর করতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরার বহু ভিটামিন এবং অ্যমাইনো এসিড রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। অ্যালোভেরার বিভিন্ন এনজাইম হজম সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
চুল, ত্বক এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের ভার নিশ্চিন্তে ছেড়ে দিন সবুজ ক্যাকটাস অ্যালোভেরার দায়িত্বে। ত্বক ফর্সা করার ক্রিম থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত ডায়েট সাপ্লিমেন্টের কয়েক লাখ ডলারের বাণিজ্যের মূল উপাদান হচ্ছে অ্যালোভেরা। অতি উপকারী ভেষজ অ্যালোভেরা গাছ কিন্তু আপনি ঘরেই রাখতে পারেন। মাত্র এক কিংবা দুই ফুট লম্বা এই গাছ টবেই লাগানো সম্ভব।
 alo veera.-1অ্যালোভেরার স্বচ্ছ প্রতিটি পাতায় রয়েছে ৯৬ শতাংশ পানি এবং ভিটামিন এ, বি, সি ও ই। অ্যালোভেরার রস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অব্যর্থ। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ অ্যালোভেরা জেল ত্বকের কোষে পুষ্টির যোগান দেয় এবং একই সঙ্গে ত্বকের টক্সিন দূর করে।চীনা এবং ব্রিটিশ আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় একবাক্যে স্বীকৃত হয়েছে অ্যালোভেরার উপকারিতা। অ্যালোভেরা খাওয়া অথবা ত্বকে লাগানো দুভাবেই আপনি উপকৃত হতে পারেন। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা শাস্ত্রে অ্যালোভেরাকে ‘অলৌকিক ভেষজ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এই একমাত্র ভেষজটি কাটাছেঁড়া, শুষ্ক ত্বক এবং পোড়া সারাতে কাজ করে।
দিল্লির চিকিৎসক ডা. দীপালি ভরদোয়াজ বলেন, ‘ভিটামিন সি, ই এবং বিটা ক্যারোটিন সৃমদ্ধ অ্যালোভেরা একদিকে যেমন পুষ্টিকর তেমনি বার্ধক্য ধরে রাখতে সক্ষম। তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চরাইজারের কাজ করে অ্যালোভেরা। ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে ত্বককে রাখে প্রাণবন্ত।
সকালে খালি পেটে এক গ্লাস অ্যালোভেরার জুস পানের পরামর্শ চিকিৎসাবিদদের। এটি হজম শক্তি বাড়ায় এবং পাকস্থলির যেকোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করে। আপনি যদি ভেতর থেকে সুস্থ থাকেন তাহলে বাহ্যিক সৌন্দর্য্য তো প্রকাশ পাবেই।
যে কোনো ধরনের ত্বকে শীত এবং গ্রীষ্মে অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। বলিরেখা সূর্যের আলোয় ত্বকের পুড়ে যাওয়া দূর করতে অ্যালোভেরার জুড়ি নেই। ত্বকে সরাসরি অ্যালোভেরা লাগাতে পারেন, আবার আপনার হাতের কাছে থাকা কিছু সৌন্দর্য্য চর্চার উপাদানও এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন।
শুষ্ক ত্বকে অ্যালোভেরা- কিছুটা অ্যালোভেরার সঙ্গে এক চিমটি হলুদ, এক চা চামচ মধু, এক চা চামচ দুধ, কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। ত্বকে মেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
অ্যালোভেরা স্ক্র্যাব- আধা কাপ অ্যালোভেরা, এক কাপ চিনি এবং দুই টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। চিনি ত্বকে স্ক্র্যাবের কাজ করবে। অর্থাৎ মরা চামড়া তুলে ফেলবে। অ্যালোভেরা ত্বকে গভীর থেকে পরিষ্কার করবে এবং লেবু মলিনতা ও পোড়াভাব দূর করবে। এই স্ক্র্যাব মুখ এবং সারা শরীরে ব্যবহার করতে পারেন।
ব্রনের চিকিৎসায় অ্যালোভেরা- অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে আখরোট বেটে মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে যুক্ত করুন মধু। আখরোট মূলত এই মিশ্রনটির ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করবে। অ্যালোভেরা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের যোগান দেবে এবং মধু ত্বকে মসৃন ও পরিষ্কার করবে।
সংবেদনশীল ত্বকের যতেœ অ্যালোভেরা- অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে শশার রস, দই এবং গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে আস্তে আস্তে ধুয়ে ফেলুন। সূত্র: ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

%d bloggers like this: