অবস্থান পরিষ্কার করলেন খালেদা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। নানা মহল থেকেই আলোচনা ও প্রশ্ন ছিল, কবে এই আন্দোলন শেষ হবে, Khaladaকেমন করে, কত দিনই বা চলবে এই আন্দোলন। এই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন খালেদা জিয়া নিজেই। স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তিনি। তাকে চাপের মুখে ফেলা হতে পারে এই ব্যাপারে তিনি বলেছেন, ‘কোনো অনৈতিক চাপ বা ভীতির মুখে নত হব না, ইনশাআল্লাহ। যে কোনো পরিস্থিতি বা পরিণতির জন্য আমি তৈরি।’ তার এই ঘোষণার বলে বিএনপির নেতা কর্মীরা এখন মাঠে আরোও সক্রিয়। তারা এখন আরো জোরে সোরে মাঠে নামার জন্য তৈরি। এই ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, এবার আন্দোলন সফল না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠ ছাড়বো না। আমাদেরকে তিনি আন্দোলনের সাফল্য না আসা পর্যন্ত মাঠে থাকতে বলেছেন। সেইভাবে আমরা আছি। তিনি বলেন, কেবল আমি নই আমরা সবাই আছি। আমাদের আন্দোলন চলবে। বেগম খালেদা জিয়া নিজে আন্দোলন করলেও এই আন্দোলনের কারণে ও সরকার নমনীয় না হলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই জন্য আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় ও গণতান্ত্রিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের সহায়তাও চেয়েছেন। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তারা বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক শক্তি যাতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেই জন্য সোচ্চার রয়েছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা সরকারের সঙ্গেও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী শাসকদের একদলীয় ধাঁচের স্বৈরশাসন কায়েমের অপতৎপরতার কারণে অতীতে দেশ জঙ্গীবাদের কবলে পড়েছিল। আমরা তা দমন করেছিলাম। আজ আবার তারা একই কায়দায় উদারনৈতিক রাজনীতির ধারাকে নিশ্চিহ্ন করতে যে নীতি অবলম্বন করছে তাতে আবারো সেই একই আশংকা দেখা দিয়েছে। এতে কেবল বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে। আমরা এই কঠিন বাস্তবতার দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণতান্ত্রিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার হওার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্দোলনের যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিতে হলে অবশ্যই সরকারের বিরুদ্ধে তারা আরো কঠোর হবেন। সেটা করতে গিয়ে আরো কঠোর কর্মসূচি চালিয়ে নিবেন। কিন্তু এর আগেই সরকারকে সেটা রোধ করতে হবে। এই জন্য সরকারকে সংলাপের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের নীতি নির্ধারক একজন মন্ত্রী বলেছেন, এই সব ঘোষণা দিয়ে হুমকি দিয়ে কোন কাজ হবে না। তিনি বলেন, সরকার কোন সংলাপ নয় বিএনপিকে আন্দোলন থেকে সরিয়ে নিবে। কোন পরিণতির দিকে আন্দোলন নিতে দিবেন না। এই জন্য যা করার সব করা হবে। খালেদা জিয়া দাবি করেছেন, সরকার ভয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মুষ্টিমেয় স্তাবক ও সুবিধাভোগীদের দ্বারা বেষ্টিত সরকার। এখন জনগণের আন্দোলনে ভীত হয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কতিপয় দলবাজ ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের হাতে কর্তৃত্ব দেওয়ার কারণে দেশব্যাপী জুলুম অত্যাচার চলছে। সকলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন ও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষে আন্দোলন চলছে। একটি যৌক্তিক পরিণতিতে না পেঁৗঁছা পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সরকারের ব্যাপক অত্যাচারের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে রাখার জন্য নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ দিয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছেন বেগম জিয়া। তার এই সব কথা নিয়ে নেতা কর্মীরাও আলোচনা করছেন। মাঠে থাকার চেষ্টা করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানুষ হত্যার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে তাকে পাঁচটি হুকুমের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এটা সরকার ঠিক করেনি। জনগণ সব বুঝতে পারছে। খালেদা বলেছেন, মানুষের জীবন নিয়ে অপরাজনীতি করি না। হত্যা ও লাশের রাজনীতির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এমন হীন ও নৃশংস অপরাজনীতি কখনো করব না। এখন যারা ক্ষমতা আঁকড়ে আছে, তারা অতীতে আন্দোলনের নামে যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে আগুন লাগিয়ে ডজন খানেক মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। লগি-বৈঠার তান্ডবে মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছে। লাগাতার হরতালে এসএসসি পরীক্ষা তিন মাস পর্যন্ত পেছাতে বাধ্য করেছে। তিনি মানুষ হত্যার দায় সরকারের উপর চাপিয়েছেন। বলেছেন, অতীতের ধারাবাহিকতায় নিরপরাধ মানুষকে নৃশংস পন্থায় হত্যাকান্ড চালানো হচ্ছে। এর দায় চাপিয়ে আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রচার মাধ্যমে অপপ্রচার ও বিরোধী দলকে এ সুযোগে দমন করার অপরাজনীতি ব্যর্থ হবে। বাংলাদেশের মানুষ এত বোকা নেই। তার অভিযোগ, সুপরিকল্পিতভাবে সর্বমুখী চাপ ও অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করে তারা আমাকে জনগণ ও নেতা-কর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সচেষ্ট। কিন্তু আমি সবাইকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, কোনো অনৈতিক চাপ বা ভীতির মুখে আমি নত হব না, ইনশাআল্লাহ। যে কোনো পরিস্থিতি বা পরিণতির জন্য আমি তৈরি আছি। এদিকে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে খালেদা আবারও সেই অনড় অবস্থানের কথা জানান দিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও দোষারোপ করেছেন। খালেদা জিয়া বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণভার দলবাজ ও বিতর্কিত কতিপয় কর্মকর্তার হাতে তুলে দিয়ে তাদের মাধ্যমে জনগণ ও প্রতিদ্বন্দ্বি রাজনৈতিক দলসমূহের ওপর চরম জুলুম-নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। ৬ জানুয়ারি দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত: ৩৩ জন বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীকে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলি, সাজানো বন্দুকযুদ্ধ ও নৃশংস অন্যান্য পন্থায় হত্যা করা হয়েছে। গুলি করে ও অন্যান্য পন্থায় আহত করা হয়েছে শত শত নেতা-কর্মীকে। আটকের পর নিখোঁজ রয়েছে অসংখ্য নেতা-কর্মী। ১৭ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কয়েক লক্ষ। অনেকের বাড়ি-ঘরে গভীর রাতে হানা দিয়ে ভাংচুর, লুঠতরাজ, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি মহিলাসহ পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন ও হেনস্থা করা হচ্ছে। এভাবে সারাদেশে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, আমাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। এ আন্দোলন জনগণকে সঙ্গে নিয়েই অগ্রসর হবো। আন্দোলন চলাকালে যাত্রীবাহী ও অন্যান্য যানবাহনে পেট্রোল বোমা মেরে ইতোমধ্যে নারী-শিশুসহ বেশ কয়েকজন নাগরিকের জীবন কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই মৃত্যুর পাশাপাশি বার্ন ইউনিটে ঝলসানো দেহ নিয়ে অনেকে যন্ত্রনায় কারাচ্ছেন। নিরপরাধ মানুষের ওপর এই বীভৎস আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাই। সহানুভূতি ও সমবেদনা জানাই। হীন ও নৃশংস হামলায় জড়িত প্রকৃত অপরধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এটা আগেও বলেছি। এখনও বলছি। এদিকে সরকার তার উপর যে সহিংসতার দায় চাপাচ্ছেন সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বলেছেন, জীবন-বিনাশী এই সব ঘৃণ্য হামলার ব্যাপারে ইতোমধ্যেই জনমনে গভীর সন্দেহ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কেননা পরিপূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রহরায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জবরদস্তি করে শাসকগোষ্ঠী কিছু কিছু যানবাহন রাস্তায় নামাচ্ছে। সেই সব যানবাহনে কেমন করে ঘাতক বোমার নৃশংস হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে, এটা একটি বড় প্রশ্ন। এইসব হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে কাউকে হাতে নাতে ধরা সম্ভব হয়নি। কোথাও কোথাও বোমা, গুলি, আগ্নেয়াস্ত্রসহ শাসক দলের চেলা-চামুন্ডারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে। তা হলেও উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। ঘটনার পরপরই বিরোধী দল ও আন্দোলনের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনরা একতরফা প্রচারণা শুরু করে দিচ্ছে। কোনো তদন্ত ও তথ্য প্রমাণ ছাড়াই আমিসহ বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয়ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করছে। কারারুদ্ধ ও আইনÑশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও এসব ঘটনায় মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ে আমাকে সহায়তাকারী অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এমনকি প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদকে পর্যন্ত বোমাবাজীর মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। আমাদের পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, আমার উপদেষ্টা ও দলের যুগ্ম-মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদেরকে পর্যন্ত রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, মানুষের জীবন নিয়ে অপরাজনীতি আমরা করি না। হত্যা ও লাশের রাজনীতির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এমন হীন ও নৃশংস অপরাজনীতি কখনো করবো না। এখন যারা ক্ষমতা আঁকড়ে আছে তারাই অতীতে আন্দোলনের নামে যাত্রীবাসে গান পাউডার দিয়ে আগুন লাগিয়ে ডজন ডজন মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। লগি-বৈঠার তান্ডবে মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছে। একটার বদলে দশটা লাশ ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। অফিসগামী কর্মকর্তাদের রাজপথে বিবস্ত্র করেছে। সমুদ্রবন্দর অচল করেছে। রেল স্টেশন পুড়িয়েছিল। হরতালের কারণে তিন মাস এসএসসি পরীক্ষা পিছানো হয়েছিল। রমজান মাসে হরতাল করেছে। পুলিশ অফিসারের মাথা ইট দিয়ে থেতলে দিয়েছে। ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদের নামে দিনাজপুরে পুলিশ ব্যারাক জ্বালিয়ে দিয়েছে। তদানীন্তন বিডিআর-এর পানি সরবরাহের লাইন কেটে দিয়েছে। এখনকার নৃশংস ঘটনাবলীও তাদের অতীত কার্যকলাপের সঙ্গেই মিলে যায়। তার উপর সরকার যে দায় চাপাচ্ছে সেটা মিথ্যে এটা জানানোর জন্য বলেছেন, এক বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ক্রমাগত আহ্বান জানিয়ে আসছি। তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। সীমাহীন অত্যাচার উৎপীড়ন করে চলেছে। অবৈধভাবে করায়ত্ব করা রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য কোনো রকম সমঝোতায় রাজী হয়নি। রাজনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করতেও রাজী নয়। তারা মনে করে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পথেই জনগণের আশা-আকাঙ্খাকে দমিয়ে দেয়া সম্ভব। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আন্দোলন ছাড়া দেশবাসীর সামনে আর কোনো পথ খোলা রাখা হয়নি। ক্ষমতার জন্য নয়, গণতন্ত্র, দেশবাসীর ভোটাধিকার ও হƒত মৌলিক মানবিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে, শান্তি, নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও সুবিচার নিশ্চিত করতে আমাদের এ আন্দোলন অভীষ্ট লক্ষে না পৌঁছা পর্যন্ত চলতে থাকবে। এ আন্দোলনে সকলকে শরীক হতে তিনি আহ্বান জানান। তার এই আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি যে আপাতত বাড়ি ফিরছেন না, আন্দোলনও ছাড়ছেন না সেটাও জানান দিয়েছেন। তবে সরকার এর কোন গুরুত্ব এখনও দিচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*