অবরোধে ভেঙে পড়ছে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : টানা অবরোধের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু পণ্যবাহী যানবাহন। এতে দিন দিন ভেঙে পড়ছে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা। ভুক্তভোগী উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে আড়তদার, 0000পরিবহন মালিক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীতেও। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই অবরোধ দীর্ঘ হলে বাড়তে পারে পণ্যের দাম। টানা অবরোধ। পথে পথে চলছে ভাংচুর আর জালাও পোড়াও। লক্ষ্যবস্তু পণ্যবাহী ট্রাক ও পিকআপ। অনেক চড়াই উৎরাই পার করে অবশেষে মূল গন্তব্য কাওরান বাজারে শাক সব্জিবাহী এ ট্রাকগুলো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে  জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েই ঢাকার পথে রওনা হয় এসব ট্রাক। সারা রাস্তা জুড়ে আশংকা আর অনিশ্চয়তার কথা জানালেন চালকরা। স্বাভাবিক সময়ে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর থেকে ঢাকা 011পর্যন্ত পণ্য বোঝাই ট্রাকের ভাড়া ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা পড়ে। তবে অবরোধে এ ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ থেকে ২২ হাজার পর্যন্ত। চালকরা বলছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় বলেই বাড়তি ভাড়া দাবি করেন তারা। তবে এর ফলে লোকসানের কথা শোনালেন ব্যাবসায়ী ও আড়ৎদাররা। বাড়তি পরিবহন খরচের কারণে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। কারওয়ান বাজারে এর প্রভাব খুব একটা না পড়লেও রাজধানীর অন্যান্য খুচরা বাজারের দামে প্রভাব পড়েছে এর। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে পণ্যের দাম আরো বাড়ার আশংকা করছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।  গতকাল রাজধানীসহ  বিভিন্ন কাঁচাবাজারে পণ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অবরোধে ভেঙে পড়েছে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীরা জানান, অন্য সময়ে হরতালে সড়কপথ Bazar-1বন্ধ থাকলেও অনেকটাই সচল থাকে নৌ ও রেলপথে পণ্য পরিবহন। কিন্তু এখন সব পথ অবরোধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পণ্য ঘাটতি বাড়ছে। আবার ঝুঁকি নিয়ে কিছু পরিবহনে পণ্য সরবরাহ হলেও দিতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। পণ্য পরিবহনের সময় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণেও বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়ছেন অনেক ব্যবসায়ী। এতে সব দিক থেকেই পণ্যের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রাজধানীর সবজির বড় পাইকারি আড়ত কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অবরোধের কারণে এসব বাজারে সবজি ও মাছের সরবরাহ ৭০ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে কারওয়ান বাজারে মাত্র ২৫-৩০টি সবজির ট্রাক এসেছে। অথচ স্বাভাবিক অবস্থায় বাজারটিতে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ ট্রাক আসে। bazar-2অন্যান্য বাজারেও একই অবস্থা।কারওয়ান বাজারে কাঁচামাল আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিনে সবজির সরবরাহে ধস নেমেছে। কিছু ব্যবসায়ী বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করলেও তাদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। অন্য সময়ে যশোর থেকে ১৫ হাজার টাকায় ট্রাক এলেও এখন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। অবরোধে ইতিমধ্যে পাঁচটির বেশি গাড়ি ভাংচুর হয়েছে। সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, ক্ষেতে সবজি কিনে রাখলেও আনতে পারেননি তারা। ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি ট্রাক ভাড়া দিয়ে লোকসানে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে সরবরাহ না করায় বাজারে সবজির ঘাটতি বেড়েছে। অন্যদিকে ক্ষেতে সবজির মজুদ বাড়ছে। এতে লোকসানে পড়ছেন কৃষক। Bazar-3অবরোধের কারণে খুচরা বাজারে সবজির দাম বেড়েছে গড়ে কেজিতে ১০ টাকা। গতকাল প্রতি কেজি করলা ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শিম, আলু, মুলা, টমেটো, কপিসহ অন্যান্য সবজির দামও চড়া। কারওয়ান বাজারের আলুর পাইকারি আড়তদার জানান, বগুড়া ও রংপুরের আলু সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ থেকে কিছু আলু এলেও বাড়তি ভাড়ার কারণে পাইকারি বাজারে কেজিতে ২ টাকা দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে দেশি পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়। একদিনে মণে দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা। এতে গতকাল খুচরায় দেশি পেঁয়াজ ৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া চীনা আদার দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানান, পাবনা থেকে ট্রাকে পেঁয়াজ বোঝাই করেও ব্যবসায়ীরা সময়মতো আনতে পারেননি। এ কারণে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের সংকট। 8শ্যামবাজারের সবজি ব্যবসায়ী জানান, অন্য বাজারে সবজি না এলেও টানা হরতালে এ বাজারে প্রতিদিন সবজি এসেছে। কিন্তু অবরোধের কারণে এখন সবজি আনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ছুটির দিনে চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নৌপথে মাছ সরবরাহ বন্ধ থাকায় দাম বেশি বাড়ছে। গত তিন দিনে রুই, আইড়, বোয়ালসহ বেশির ভাগ মাছের দামও কেজিতে গড়ে ৫০ টাকা বেড়েছে। আড়তে মজুদ মাছ তেমন না থাকায় দাম আরও বেড়েছে। স্বস্তিতে নেই পোলট্রি ব্যবসা। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি কেজি মুরগি ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল ১৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫০ টাকা বেড়ে প্রতিটি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। শ্যামবাজার কৃষিপণ্য বণিক সমিতির কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি ট্রাক এলেও তিন দিন ধরে ট্রাক আসতে পারছে না। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ভয়ে পণ্য সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: