অবরোধের কারণে নওগাঁয় জ্বালানি তেলের চরম সঙ্কট

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : দেশে লাগাতার অবরোধের কারণে নওগাঁয় জ্বালানি তেলের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যার তীব্র প্রভাব পড়ছে যানবাহন থেকে শুরু করে কৃষকের চলতি মৌসুমের বোরো চাষেও। জানা গেছে, নওগাঁ জেলায় রয়েছে ২৮ টি তেলের পাম্প। গত ১৩ দিনের টানা অবরোধে নওগাঁর তেল পাম্পগুলো তেল আমদানি করতে পারেনি। oilএদিকে তেলের মজুদও ফুরিয়ে এসেছে। আর তাই বর্তমানে পাম্পগুলোয় চলছে এক রকমের হাহাকার। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রশাসনিকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তেল সরবরাহ করা সম্ভব। আর জেলায় তেল সরবরাহে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাজনিত সব ধরনের সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। ব্যবসায়ীরা আরো বলছেন, দু-একটি পাম্পে তেল থাকলেও ফুরিয়ে যাবে দু-এক দিনের মধ্যে। আর তাই যানবাহন চলাচল নিয়ে দু:শ্চিন্তায় পড়েছেন চালকরা। দেওয়ান ফিলিং স্টেশনে আসা আসবউদ্দৌলা চৌধুরী নামে এক কলেজ শিক্ষক জানান, পথে হঠাৎ করে তেল ফুরিয়ে গেলে শহরের ৩ টি তেল পাম্প ঘুরেও তেল মেলেনি। দেওয়ান ফিলিং স্টেশনে এসে তেল পাওয়া গেলেও চাহিদার তুলনায় তিনি খুবই সামান্যই পেয়েছেন। তিনি বলেন, দৈনন্দিন কাজের সবটুকুই তাকে করতে হয় মোটরসাইকল যোগে। এখন যদি তেল না পাওয়া যায় তবে চলবে কিভাবে? এ বিষয়ে দেওয়ান ফিলিং স্টেশনের মালিক দেওয়ান যুবায়ের আহম্মেদ জানান, গত ৫ তারিখের পর থেকে তিনি আর তেল আমদানি করতে পারেননি। যতটুকু মজুদ আছে তাও আগামীকালের মধ্যে ফুরিয়ে যাবে। অন্যদিকে এলাকার বোরো চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার কৃষক। স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাঠে যে দু’একটি হাল দিচ্ছি তাতেও গুনতে হচ্ছে অধিক খরচ। এ বিষয়ে এনামুল হক নামে সদর উপজেলার এক কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করবেন তিনি। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই এমন তেল সঙ্কটের কারণে সেচ ও জমির চাষ নিয়ে দু:শ্চিন্তায় পড়েছেন। oil-1নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাষ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারলে বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেও জানান তিনি। জেলা জ্বালানি পরিবেশন মালিক সমিতির সভাপতি সামসুল হক জানান, অবরোধের কারণে তেল সরবরাহ করতে পারছি না বলে আমারাও অসহায়। একটি গাড়িতে ১৬ লাখ টাকার তেল থাকে। এছাড়া গাড়ির মূল্য আর শ্রমিকের জীবন সব মিলিয়ে এমন অবস্থায় তেল সরবরাহ করা মানে অনেক বড় ঝুঁকির বিষয়। যদি প্রশাসনিকভাবে নিরাপত্তার সহযোগিতা দেয় তাহলে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী উল সহিদ জানান, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে জেলার জ্বালানি পরিবেশন মালিক সমিতির নেতাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা প্রয়োজন মনে করলে জেলা প্রশাসন তাদের সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত আছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: