অপূর্ব সুন্দর চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২১ জানুয়ারী ২০১৭, শনিবার: ছুটির দিন এলেই বাচ্চাদের বায়না, ঘুরতে নিয়ে চলো, ঘুরতে নিয়ে চলো। কিন্তু কোথায় থাকে। চট্টগ্রামের বাইরে বেড়াতে যেতে তো কমের পক্ষে এক সপ্তাহ সময় দরকার। সঙ্গে খরচ তো আছেই। বলছিলেন সালমা বেগম নামে এক গৃহিনী। না এটা শুধু তার একার সমস্যা নয়। প্রায়ই শোনা যায় এই ক্ষেদ। কিন্তু আসলে কথাটা পুরো সত্যি না। চট্টগ্রাম এবং এর আশপাশেই আছে একদিন বা বারবার যাওয়ার সুন্দর জায়গা। প্রকৃতির অনাবিল ছোট্ট স্বর্গরাজ্যটিতে না গেলে বুঝতেই পারবেন না। তাই ঘুরে আসুন সেই অপূর্ব সুন্দর জায়গা পাহাড়ী অঞ্চলে। এই পাহাড় সমূহে রয়েছে প্রচুর দুর্লভ গাছপালা।
পাহাড়সমূহের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে লাল, নীল, সাদা, হলুদ জাতের শাপলায় ভরা অনেকগুলো শাপলা হাউস, বিরল প্রজাতির দেশি-বিদেশি ক্যাকটাস, অর্কিড এনয়োরিয়াম, বিচিত্র বকুল, আমাজান লিলি ও কৃত্রিম সুরঙ্গসহ একটি ছায়াতরু ঘর। দুর্লভ উদ্ভিদের পাশাপাশি কিছু দেশীয় উদ্ভিদ যেমন কামরাঙা, বিচিত্র রাবার, টগর, হরিতকি, বহেড়া, ডেউয়া, বুদ নারিকেল, বোতলপাম, মিষ্টি তেঁতুল, জামরুল, সফেদা, খেজুর, সুপারি রয়েছে।

বন্দরনগরীর অন্যতম আকর্ষণ ফয়’স লেক। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে রেলকর্মীদের পানির চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে এলাকাটি। কেউ কেউ এটিকে প্রাকৃতিক লেক ভেবে ভুল করে। আসলে এটি কৃত্রিম লেক। স্থাপিত হয়েছে ১৯২৭ সালে। পানির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কালক্রমে এটি হয়ে ওঠে বিনোদনকেন্দ্র। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে গেছে নাতিদীর্ঘ লেক, লেকের এপারে-ওপারে সৌন্দর্য নিয়ে গর্বিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড় এ দৃশ্য সহজেই মুগ্ধ করার মতো।
ফয়স লেকের মূল প্রবেশ গেটের বিপরীত দিকেই রয়েছে ইউএসটিসি তথা ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চুয়েট ইঞ্জিনিয়ার ইউনিভার্সিটি। এগুলো ফেলে জাকির হোসেন রোড ধরে মিনিট দুয়েক হাঁটলেই চট্টগ্রাম টেলিভিশন ভবন। ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানই গড়ে উঠেছে পাহাড়ের ওপর যা  নজরকাড়ার মতো।
এগুলো হাতের ডানদিকে। সিটিভি ছাড়িয়ে সামান্য একটু এগোলেই একাত্তরের বৃহৎ বধ্যভূমি। বধ্যভূমি বর্তমানে বাউন্ডারি করা রয়েছে। বধ্যভূমির পরই ওয়ারলেস নামক একটি জায়গা। এখানে রয়েছে ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটি, সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হাঁস-মুরগির খামার। এগুলো ছাড়িয়ে একটু দূরেই বিএডিসি তথা বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। মিনিট দশেক হাঁটার পর চোখে পড়বে নয়নাভিরাম পাহাড়শ্রেণী। এটা ফয়’স লেকের বাউন্ডারি করা পাহাড়েরই অবশিষ্ট অংশ। পার্থক্য হচ্ছে, এখানে উঠতে টিকিট কাটতে হবে না! স্থানীয় জনগণের আন্তরিকতাও মুগ্ধ করবে। একটু সামনে পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজ। সম্পূর্ণ কলেজ এবং সুবিশাল ক্যাম্পাস সবই পাহাড়ে। ঝাউতলা থেকে রিকশায় ১০ টাকা ভাড়া পাহাড়তলী পোস্ট অফিস এবং রেলওয়ে স্কুল। এগুলোর সামনেই প্রীতিলতা মনুমেন্ট। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রগণ্য সৈনিক মাস্টারদা সূর্যসেনের সহকর্মী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
এখানে, ইউরোপীয়ান ক্লাবে অবস্থিত অস্ত্রাগার লুণ্ঠন শেষে ধরা পড়ে যান বীরকন্যা প্রীতিলতা। একটি সরু নালায় পা হড়কে পড়ে যান প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। তারপর ধরা পড়েন ব্রিটিশদের হাতে। কালের সাক্ষী হিসেবে সেই নালাটি আজও টিকে আছে। তার পাশেই আছে রেলওয়ে জাদুঘর। এটি পাহাড়ের ওপর একটি বাংলোয় অবস্থিত। এ জাদুঘরে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে রেলওয়ে তথা রেলগাড়ির দীর্ঘ ইতিহাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*