অন্যরকম এক নতুন বছর-২০১৯

আবছার উদ্দিন অলি, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, সোমবার: বাংলাদেশ এবার নতুন এক নববর্ষ উদ্যাপন হবে। বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার এগিয়ে যাবে। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে। বিজয়ে নতুন বছরে নতুন উপহার মহাজোট সরকার। টানা তৃতীয় বারের মত প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। মানব সভ্যতার আলোকেই একদিন মানুষ এক সেকেন্ডকে সময়ের একক হিসেবে ধরে নিয়ে তারপর মিনিট, ঘন্টা, দিন মাস বর্ষ শতাব্দী ইত্যাদির গণনা শুরু করে। সময় হল অখন্ড এক চিরন্তন গতি। সময়ের ভিতরে পৃথিবীর সকল প্রাণীর জন্ম মৃত্যু ক্রমাগত ভাবে ছুটে চলছে। সময় কারো পক্ষপাতিত্ব করে না। আমরা তাই উন্মুক্ত সময়ের মুক্ত মানুষ হয়ে কর্মফলকে বিশ্বাস করি। কথায় আছে যৎ কর্ম তৎ ফল। অতএব, এই নববর্ষটি কি রকম হওয়া উচিত এই বিষয়ে নিছক কথার ফুলঝুরি না ছড়িয়ে আমার সকল কর্মে বলনে চলনে দায়িত্ব পালনে আগামী দিনগুলোর প্রতিটি মুহুর্তকে সততার সাথে সৃজনশীল করে তুলতে চাই। উন্নয়নের বাংলাদেশ এই শ্লোগানের মর্মবানী এই প্রজন্মের মনে প্রাণে ও মননে মিশিয়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরো আরো শাণিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আগামী সরকারের জন্য এবারের নববর্ষটা একটু অন্যরকম। কারণ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সংখ্যারিষ্ট পেয়েছে তারাই সরকার গঠন করবে। তাই এবারের নববর্ষটি অন্যান্য বারের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম। বছরের শুরুর এবং শেষের প্রতিবারের মত যে বর্ণাঢ্য আয়োজন থাকে এবার নির্বাচনের কারণে তা হচ্ছেনা। এমনকি আনন্দ উৎসবও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মের মধ্যে করতে হবে। নিরাপত্তা জনিত ও ভোটের কারণে এবার থাকছেনা বর্ষ বিদায়ের কোন আয়োজন। এই নববর্ষে যেন লাখো শহীদের আত্মার গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হয়ে যায়। গেলো বছরের হিসেব খাতায়, যোগের চেয়ে বিয়োগের অংকটাই এখন বড়। সে যাই হোক আশা করি নিরাশার দোলা চালেইতো জীবন চলে। মৃত্যুর আগ মুহুর্তে পর্যন্তইতো মানুষ আশায় বাঁচে। আমরাও মানুষ, তাই ক্ষেত্র বিশেষে অতীতের স্বীয় ব্যর্থতার গ্লানিকে পিছনে ঠেলে দিয়ে নতুন বছরের পথ পরিক্রমনে যাত্রাকালে চেনা এ পৃথিবীটার সবার জন্যে সুখ কামনায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ ছাড়া চৌচির কোন মাঠ ফসলের চৈতি ক্ষরায় কান্না কারো কোন দুঃখ ব্যাধি জ্বরায় নির্ঝর বারিধারা বিমূর্ত হাসি আশার একান্ত কাম্য। অনোদার যুদ্ধ বারুদের মানুষ মারায় নিত্য দিবারাত সন্ত্রাস জীবন পাড়ায় শান্তির প্রচ্ছায়া চিরায়ত খুশী আমাদের প্রানান্ত চাওয়া। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় স্বাধীন স্বদেশ প্রিয় মাতৃভূমিকে গড়ে তোলার বিমূর্ত অঙ্গীকারে- যে কোন ত্যাগ স্বীকারে হাঁ বলার সৎ সাহসে উদ্দীপ্ত আমরা। দেশের মানুষ অস্থিতিশীল পরিবেশকে পেরিয়ে ভালভাবে বেঁচে থাকুক এই প্রত্যাশা করি। নতুন কোন দূর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে যাওয়া অসহায় মানুষদের কান্না আর দেখতে চাই না, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো নতুন করে কারো প্রাণহানি ঘটুক, আমরা দেখতে চাই না, আসুন সবাই মিলে নতুন বছরে নতুন করে সুন্দরভাবে বাঁচতে ঐক্যবদ্ধ হই। সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াই। তবেই আমরা ফিরে পাবো সেই “স্বপ্নের বাংলাদেশ”। রাষ্ট্র কিংবা কোন দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তির অবহেলায় নতুন কোন দূর্ঘটনায় কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়, কোন স্ত্রী যেন স্বামী- সন্তান হারা না হয়। এই কামনা করি। নতুন বছরের সূর্যোদয়ের সোনালী আভায় লাখো গোলাপের সুভাসে আন্দোলিত হোক ২০ কোটি বাঙ্গালী, বাস্তব হোক সেই লাখো বীর শহীদ সূর্য সন্তানদের স্বপ্ন একটি “স্বপ্নীল বাংলাদেশ”। পুরোনকে বিদায় দিয়ে নতুন কে বরন করে নেয়াই মানুষের সহজাত ধর্ম। আবহমান কাল ধরে মানুষ পুরাতন কে শুকনো ঝরা পাতার মত ত্যাগ করে নতুন কুঁড়ির উদগমন হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করে। ইংরেজী নতুন বছর ২০১৯ কে জানাই সাদর সম্ভাষণ। এক বুক অনাবিল আনন্দ সিঞ্চনে স্বাগত জানাই নতুন বছরের নবীন প্রভাতের নবীন সূর্যকে। অতীত সবসময়ই ইতিহাস। এ বছরের ভুলগুলো শুধরে সমস্ত ইতিহাস থেকে ভাল শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণের লক্ষে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে। ২০১৯ সালে যেন সব অসহনীয় বৈরী পরিবেশ কে পেছনে ফেলে কাঙ্খিত, মনোরম, ভালবাসায় এক গুচ্ছ প্রত্যাশা ও আশ্বাস কে খুঁজে পায় অনায়াসে। ইংরেজি নতুন বৎসর শুরুর দিন থেকে আশার আলোতে প্রত্যাশার পদধ্বনি বেজে উঠুক। বছরের শেষের আগের দিন নির্বাচন হওয়াতে এবারের নতুন বছর এক অন্যরকম নতুন বছরে পদার্পণ করবে। সবকিছুর পরও সুখ শান্তির প্রত্যাশায় স্বাগত নতুন বছর ২০১৯ সাল। লেখক: সাংবাদিক ও গীতিকার

Leave a Reply

%d bloggers like this: