অনেকক্ষণ সংযমের পর এমন দিনে ইফতারে চাই পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাবার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : ০৯ জুন ২০১৭
তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও দিনের দৈর্ঘ্য বাড়ছেই। তাই অনেকক্ষণ সংযমের পর এমন দিনে ইফতারে চাই পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাবার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে ভাজাপোড়া না খাওয়াই ভালো। বরং বুদ্ধিমানের কাজ হবে ফলমূলে মনোযোগী হওয়া। তাই রমজানজুড়ে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ। আজ থাকছে তরমুজ

পুষ্টিগুণ
ভিটামিন বা খনিজ সবই রয়েছে তরমুজে। আছে অর্গানিক উপাদান। ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার, প্রোটিনসহ আছে প্রচুর পটাসিয়াম। আরো আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন আর থিয়ামিন। ক্যারোটেনয়েড ও সাইটোনিউট্রিয়েন্টের কয়েকটি ধরনও মিলবে তরমুজে।

কিডনি
ব্যাপক পটাসিয়াম থাকায় কিডনিতে জমা পড়া বিষাক্ত ও ক্ষতিকর যেকোনো উপাদান হটাতে চিকিৎসকরা ভরসা রাখতে বলেন তরমুজে। রক্তে ইউরিক এসিডের মিশ্রণ কমাতেও কার্যকর। কিডনির মধ্যে পাথর গঠনের প্রক্রিয়াই নষ্ট করে দেয় এই পানিপূর্ণ ফলটি। প্রাকৃতিকভাবেই মূত্রের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে দেহের অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানও বেরিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরেও কিডনির স্বাস্থ্যের দেখভাল করে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

হিট স্ট্রোক
তীব্র গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে কেউ মুক্ত নয়। দেহের তাপমাত্রা ও রক্তচাপ বাড়লেও তা সামাল দেয় তরমুজ। ঘামের কারণে দেহে যে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, তার অভাব পূরণ করে তরমুজ।

উচ্চ রক্তচাপ
পটাসিয়াম ও পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতি রক্তচাপ কমাতে সহায়ক হয়ে ওঠে। পটাসিয়ামকে বলা হয় ‘ভাসোডাইলেটর’। অর্থাৎ এটি ধমনি ও রক্তবাহী নালিগুলোর টান টান ভাবকে সহজ করে তোলে। ক্যারোটেনয়েড এদের অভ্যন্তরের দেয়ালের শক্তভাব দূর করে। এতে বাড়ে স্থিতিস্থাপকতা। কমে আসে রক্ত জমাট বাঁধা, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক আর অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকি।

ডায়াবেটিস
এ রোগীরা মন ভরে খাবার খেতে পারে না। তাই ভোজনরসিকরা প্রায়ই ক্ষুধা অনুভব করে। মনে হয়, অভুক্ত রয়েছে তারা। এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে তরমুজ। মিষ্টি স্বাদের হলেও তা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত নয়। খুব অল্প ক্যালরিযুক্ত ফল। কিন্তু খেলেই মনে হবে, পেট ভরে গেছে। অথচ এর ৯৯ শতাংশ জুড়েই থাকে পানি আর ফাইবার।

হৃদযন্ত্র
তরমুজে আছে লাইপোসিন, যা একটি ক্যারোটেনয়েড। এটা আপনার হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর বয়সের ছাপ দূর করতে ওস্তাদ বেটা ক্যারোটিন। তাও মিলবে তরমুজে। পানি ছাড়া বাকি যে অংশ চিবিয়ে খাওয়া হয় তাতে রয়েছে স্বল্প শক্তি। এর ভিটামিন সি, ক্যারোটেনয়েড আর পটাসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধসহ দেহের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

টিস্যুর যতœ
দেহে প্রতিনিয়ত টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতেই থাকে। তরমুজের লাইপোসিন কিন্তু টিস্যুর মেরামতে দারুণ কার্যকর। সাইটোনিউট্রিয়েন্ট এমন এক জিনিস যা বহু রোগ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়।

–অর্গানিক ফ্যাক্টস অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*