অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের পক্ষে ৫০৭ জন বিশিষ্টজনের বিবৃতি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৫ মে ২০১৯, বুধবার: চট্টগ্রামের বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউএসটিসি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছেন ৫০৭ জন। বিবৃতিদাতারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, গবেষক, সাহিত্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, সমাজকর্মী, বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবী। মঙ্গলবার ৫০৭ জনের নাম ও পদবি উল্লেখ করে গণমাধ্যমে এই বিবৃতি পাঠানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রেণিকক্ষে অপ্রাসঙ্গিকভাবে যৌনতাবিষয়ক আলোচনার যে অভিযোগ অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা আমাদের ক্ষুব্ধ ও বিচলিত করেছে। তিনি চার দশক ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইংরেজি বিভাগে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে অধ্যাপনা করেছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে কখনও শ্রেণিকক্ষে বা তার বাইরে নীতিবিরুদ্ধ কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ আসেনি। অবসর গ্রহণের পর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এ অভিযোগ আপত্তিকর ও অবিশ্বাস্য। ইউএসটিসির ইংরেজি বিভাগের উন্নয়নের স্বার্থে মাসুদ মাহমুদের নেওয়া কিছু পদক্ষেপে কিছু মানুষের স্বার্থে আঘাত লাগার ফলে শিক্ষার্থীদের কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ থেকে মাসুদ মাহমুদকে মুক্তি দেওয়া হোক।

বিবৃতিদাতারা হলেন- ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ফখরুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন ও অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, চবির ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মঈনুল হাসান চৌধুরী, ঢাবির ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ৫০৭ জন।
বিশিষ্টজনেরা বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে, বিশেষত সাহিত্যের শ্রেণিকক্ষে, প্রাসঙ্গিকভাবেই যৌনতা বিষয়ক আলোচনা আসতে পারে। যৌনতা মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সাহিত্যেও এর প্রতিফলন ঘটে থাকে। এ-বিষয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করা একজন শিক্ষকের দায়িত্ব এবং অধিকার। নিজেদের চিন্তা-চেতনার অপরিপক্বতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি এ-ধরনের আলোচনায় আহত হন, তার দায় শিক্ষকের নয়। শিক্ষার্থীর সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়ে শিক্ষককে তার আলোচনাকে সীমিত করতে বলা জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতায় আঘাত করার সামিল। শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের নতুন-নতুনতর ভূখণ্ডে পরিভ্রমণ করানোর মাধ্যমে তার মেধা, রুচি, চিন্তাশীলতা ও মননের বিকাশ ঘটানোই একজন প্রকৃত শিক্ষকের কর্তব্য; অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ ঠিক সেটিই করছিলেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা জানতে পেরে হতবাক হয়েছি যে অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ শ্রেণিকক্ষে যৌনতা বিষয়ক আলোচনা করেছেন কি-না এবং করে থাকলে তার প্রকৃতি কী ছিলো তা তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে। বিদ্যায়তনে কী আলোচনা হবে, কী হবে জ্ঞানচর্চার প্রকৃতি তা শিক্ষাবিদদের বদলে যদি রাষ্ট্রযন্ত্র এবং পুলিশ প্রশাসনের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় তবে শিক্ষাদান ও গ্রহণ এবং গবেষণাকর্ম পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহই নেই। সুতরাং, আমরা এই ভয়ঙ্কর প্রবণতার ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানাই। মুক্তবুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চা এবং তার প্রকাশের অধিকার আমাদের যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো অযাচিত হস্তক্ষেপ দেশ ও মানবতার অগ্রগতির পরিপন্থী।’
বিবৃতিতে বিশিষ্টজনেরা দাবি জানান, ‘অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদকে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক আনীত অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়ে তার তিলে-তিলে গড়ে তোলা সামাজিক সম্মান খানিকটা হলেও ফিরে পাবার সুযোগ করে দেওয়া হোক। আমরা উদ্ভূত অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশু সমাধান কামনা করি।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: